পূর্ণলক্ষ্মীর একাল সেকাল (অন্তিম পর্ব)

Summer 2014 907

 

 

খুব সকালে সুপুরি গাছর ফাঁক দিয়ে খুড়িমার ছাদ টপকে সকালবেলার রোদ পূর্ণলক্ষ্মীর ঘরটাকে একেবারে ঝলমলে করে দেয়। সকাল ছটাতেই ঘর গরম। মা্ন্ধাতার আমলের রেডিও চালিয়ে দিলেই শোনা যায়, “বন্দেমাতরম্…”। এ নিয়ম সেই কবে থেকে চলে আসছে। তার একটু আগেই অবিশ্যি বাড়ি জাগে। উনুনে আঁচ পড়ে নিরামিষ ঘরে তারপর বিশাল কেটলিতে চায়ের জল বসে। আশির দশকের আগে এবাড়িতে গ্যাস ঢোকেনি। পূর্ণলক্ষ্মী তাঁর ‘উগ্র আধুনিকা’ মেয়েদের বলেছিলেন, ওসব তোমরা ব্যবহার করো মা…তোমাদের সব আপনি আর কোপনির সংসার। আমার বাড়ি সারাদিন ধরে যজ্ঞিবাড়ির রান্না হয়, আমি খরচ কুলিয়ে উঠতে পারবোনা”। সে যাই হোক্, সেই ‘রাবণের চিতা’ জ্বলার আগেই পূর্ণলক্ষ্মী মাথায় গঙ্গাজল ছিটিয়ে, শাড়ি জামা বদলে ফুলের টুকরি আর আঁকশি নিয়ে বারান্দায় বেরোন। একটি দুটি করে আঁকশির টানে কলকে ফুলে সাজি ভরে যায়। শোবার ঘরের পাশের বড় ঘরে বিশাল খাট, যেটা আগে ছেলেপুলেতে ভরে থাকতো, সেটার পাশ দিয়ে একটু এগিয়ে একটা বড় জানালার কোলে পূর্ণলক্ষ্মীর ঠাকুরের আসন। একই জায়গায় আছে কতবছর ধরে। ঐ আসনের সামনে বসেই ষোড়শীবালা গোরা সার্জেন্টের চোখে ধুলো দিয়েছিলেন মণি মারা যাওয়ার পর…সেসব কতদিন আগেকার কথা। আজকাল আর বেশীক্ষণ ধরে পূজোপাঠ করতে পারেননা পূর্ণলক্ষ্মী। শরীরে জোর কমে আসছে, বেশীক্ষণ বসে থাকলে কোমরে লাগে। ঐ যা একটু গুরুমন্ত্র জপ করা আর গৃহদেবতা কালীর পায়ে দুটো ফুল গুঁজে দেওয়া। ঐ করতে করতেই সাড়ে ছটা বাজে। ততক্ষণে তিনতলা থেকে বড় কাঁচের গেলাসে বেশী দুধ চিনি দিয়ে চা আর একটা কাঁচের প্লেটে দিস্তে খানেক মেরী বিস্কুট আসে। আরাম কেদারার হাতলে সে সব নামিয়ে রাখা হয়। পূর্ণলক্ষ্মী এখন অনেকক্ষণ ধরে বিস্কুট ভিজিয়ে চা খাবেন। এইসময়টা তিনি একা। করুণা বরাবরই দেরী করে ওঠে। পায়ের কাছে বসে থাকে আধা এ্যালসেশিয়ান টমি। পূর্ণলক্ষ্মীর শেষ বয়সের পুষ্যি।

চা খেতে খেতে সোজা দক্ষিণের বারান্দার দিকে তাকিয়ে থাকেন পূর্ণলক্ষ্মী। দোতলা প্রায় ফাঁকাই থাকে। করুণা কলেজে আর বড়বৌমা সেজবৌমা তিনতলায় রান্নাঘরে। দক্ষিণের ঘরখানা এখন সলিলের। তবে জম্পেশ ড্রেসিং টেবিলখানা এখনও ভর্তি খুকুর টুকিটাকিতে…কাশ্মিরি কাঠের বাক্স ভর্তি চন্দন গুঁড়ো (বিবি আবার পাউডার মাখা পছন্দ করতেন না…)লিপস্টিক…এনিডের পাঠানো সেন্ট্। সলিলের জন্যে বড় চিন্তা পূর্ণলক্ষ্মীর। জীবনটা বড় এলোমেলো হয়ে গেলো ছেলেটার…মনটা ওর কিসে বিকল হলো বোঝা গেলো না ঠিক…তবুও কেন যেন শেষেমেষ এই অব্যবস্থিত ছেলেটারই হাতদুটো ধরে বলেছিলেন, “মায়া ছায়াকে তুমি দেখো…”
       পায়ের কাছে টমি ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করে। অন্যমস্ক থাকলেও ঐ আনমনেই এক আধখানা করে বিস্কুট তার মুখের কাছে বাড়িয়ে ধরেন। একটু আধটু গল্পও করেন মাঝে মাঝে: “কি, টমিবাবু, আজ অখাদ্যি কুখাদ্যি খেতে কোথায় যাওয়া হবে, শুনি?” টমি ঘাড় কাত করে মন দিয়ে শোনে তারপর অবস্থা জরিপ করে সামান্য একটু লেজ নাড়ে। কথাগুলো যখন রাগের মত শোনায়, তখন একটু মৃদু কান্নার আভাস দিয়ে থাবার ওপর মুখ দিয়ে বসে থাকে।

বেলা বাড়লে স্নান সেরে নেন পূর্ণলক্ষ্মী। বারোমাস ঠান্ডা জল।  ঠিক বারোটায় ঘরের মেঝে পরিস্কার করে গঙ্গাজল ছিটিয়ে মুছে দেন বড়বউমা। তারপর খাবার সাজিয়ে দেন। কাঁসার থালায় গোবিন্দভোগ চালের ভাত, হালকা মুগের ডাল আর বড় কাঁসার বাটি ভর্তি নিরামিষ ঝোল।

সন্ধ্যেবলা আবার ঘরে মানুষজনের যাতায়াত শুরু হয়। আলো জ্বলে। বড়বৌমা ঘরে ঘরে সন্ধ্যে দেন। করুণা চেয়ারে বসে কাগজ পড়ে। মাঝেমধ্যে এক আধজন আত্মীয় স্বজন এসে পড়ে, তখন আবার পুরোনো দিনের মত লাগে।

দুপুরবেলাগুলো চোখ বুঁজে শুয়ে থাকেন পূর্ণলক্ষ্মী। কোনওরকমে সময় কাটানো নিয়ে কথা। তবে সব দুপুরই সমান যায়না। মাঝে মাঝে শেষ দুপুরে উড়োখুড়ো এক নাতনী রোদে পুড়ে বিলিতি বেগুন হয়ে এসে পড়ে। কাঁধে ঝোলা। চুলগুলো নুটি করে বাঁধা। এসেই ধপাস করে দাদুর ইজিচেয়রে। ন’ড়ে চ’ড়ে উঠে বসেন পূর্ণলক্ষ্মী। তাকিয়াটা কোলে তুলে নেন।

–চুলগুলোর এইরকম শনের নুড়ি দশা কেন রে? তেল দিসনা?”

–“দিদা please bore কোরো না তো। অন্য কথা বলো। না পারলে চুপ করে বসে থাকো!

–“এত মেজাজ কিসের,শুনি?”

–Discollegiate হয়েছি, আবার কি!  ক্লাস ফাস করিনি তাই কলেজের খাতা থেকে নাম কাটা গেছে। পরীক্ষা দিতে দেবেনা। হয়েছে?

–কি সর্বনাশ…আবার বড়মুখ করে বলা হচ্ছে?! ডলু জানে?!

–জানেনা, জানবে। কলেজ থেকে কাল চিঠি গেছে। অফিসের দিলীপদা জানিয়েছে আজ। ভ্যান ভ্যান করোনা এখন। একটা প্ল্যান করতে দাও। বাড়ি থেকে ফোন করলে, আমি এখানে আসিনি।

–যেমন তোমার বাবা তেমনি তোমার মা। হাজারবার বলিছিলুম শিলাকে, ব্রেবোর্ণে ঢুকিয়ে দে ঝুঁটি ধরে…পড়া নেই শুনো নেই…যত রাজ্যির বাপে তাড়ানো মায়ে খেদানো ছেলেপিলের সঙ্গে জুটে আড্ডাবাজি শেখা হয়েছে!! যাও এবার বাড়ি যাও, বাপ মা দুধের বাটি নিয়ে বসে আছে। আজ হবে’খন তোমার… থাকতো তোর দাদু, নড়া ধরে হিড় হিড় করে টেনে নিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দিতো…

এই ‘অতি বেয়াড়া’ নাতনীর তাঁবে করা হয়েছিলো তার এক মামাতো বোন আর এক মাস্তুতো বোনকে। পলি আর ছায়ার পিঠোপিঠি মেয়েকে মাধ্যমিকের বাংলা বৈতরণী পার করার ভার ছিলো তার। সেই গুরুদায়িত্ব সম্পন্ন করতেই মহারানীর আবির্ভাব হতো ভরদুপুরে। কোনও রকমে দুটি দুটি পড়িয়েই গুছিয়ে বসে মুখার্জি সুইটসের আদা কুচি দেওয়া মোগলাই পরোটা বা মাছের কাটলেট।

 

Lakhshmi

 

কিন্তু এ গল্প নাতনীর নয়। এ গল্প গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত পূর্ণলক্ষ্মীর। ‘পূর্ণস্য পূর্ণমাদায়…’
শেষবেলায় এ এক আচ্ছা সই পাতিয়েছিলেন পূর্ণলক্ষ্মী। বহুবছরের মরচে ধরা তোরঙ্গ খুলে বলেছিলেন : “যা নিবি,নে”। এ যেন ঠিক সেই লক্ষ্মীর তোরঙ্গ। সিন্দুকের ওপর তোলা থাকতো। লক্ষ্মীপূজোর আগের রাতে তার থেকে বেরোতো একটা বড়সড় ধানের কুনকে। সেটি ভরা হতো পুরোনা দিনের কড়ি দিয়ে। তার গায়ে জড়ানো হতো ছোট ছোট চেলি বেনারসি। কোনওটা বুড়ো দাদাশ্বশুরের অন্নপ্রাশনের। কোনওটা দিদিশাশুড়ীর গৌরীদানের। ঠিক মুখের কাছে ঝোলানো হতো এক গোছা ধানের শিস্।তার ওপর দিয়ে লাল পাড় সাদা শাড়ি জড়িয়ে লক্ষ্মী পাতা হতো আল্পনা দেওয়া জলচৌকির ওপর। মনে হতো একটা ছোট মেয়ে মাথায় ঘোমটা দিয়ে লজ্জায় আধখানা হয়ে বসে আছে।

উপমান আর উপমিত।

লক্ষ্মীর তোরঙ্গটি উপমান। কথারও তোরঙ্গ থাকে। তারও ডালা খুলে তাতে রোদ বাতাস দিতে হয়। পুর্ণলক্ষ্মীর সে কথাই মনে হয়েছিলো কিনা কে জানে। দুপুরবেলায় এই নাতনীকেই তাই ডালা খুলে ধরতেন তিনি। তারপর পছন্দমত দুই এক খানা পুরোনো চেলি খুলে ধরতেন তার সামনে : কতরকম ছিলো সেই তোরঙ্গে। মেজ ভাসুর ঠাকুরের দ্বিতীয় পক্ষের বিয়ের গল্প: “ওমা, কি কাণ্ড…ভোরবেলা উঠে দেখি বারান্দার দেওয়ালে পোড়া কাঠকয়লা দিয়ে লেখা ‘আমি বিবাহ করিতে চাই’। উনি গঙ্গাস্নান থেকে ফিরলে ওনাকে দেখালুম। উনি খানিক হাঁ করে দেখলেন, তারপর বললেন, ‘এটি কোন গুণধরের কান্ড?’ তারপর সই-টি চোখে পড়েছে। সঙ্গে সঙ্গে উধাও!” শুনশান দুপুর চৌচির হয়ে গিয়েছিলো দু দুটো ছেলেমানুষি হাসির গমকে।

শীতের দিনে অন্যরকম রং ধরতো মাঝে মাঝে:
–“আমরা পুরোনো আমলে শীতকালে কিভাবে বোয়াল মাছ খেতাম, জানিস?
— না জানিনা, তুমি বলো। মা বোয়াল রাঁধেনা।
–পাঁচফোড়ন, আদাবাটা হলুদ আর কাঁচালংকা। বেগুন সিম আলু সব বড় বড় করে কেটে দিবি। ভাজা বড়ি দিবি। রান্না হবে শেষ দুপুরে। পাথরর বাটিতে ঢেলে চাপা দিয়ে সারারাত ছাদে রাখতে হবে। হিম পড়ে ক্ষীরের মত হয়ে যাবে। বাড়ির লোকজন আপিস কাছারি চলে গেলে গিন্নীরা গরম গোবিন্দভোগ চালের ভাত ওই ঝোল দিয়ে খেতুম। আমাদের সময় তোমাদের মত পাঁউরুটি চিবোনোর কেতা ছিলো না!

এইসব নানা বুনোটের নক্শাকে কি বলে? উত্তরাধিকার? নাহলে যে মেয়ের রান্নাঘরের সঙ্গে সম্পর্কই নেই, তাকে কেউ বলে যায় আনারসের চাটনীতে ঘিয়ে মেথি শুকনোলংকা ফোড়ন দিতে হয়! আসলে পাতা ঝরার সময় হলে গাছ বোঝে। একবার  ফলে ফুলে ভরে ওঠে শেষবারের মত। শিরা ওঠা হাত দুটো একবার শেষবারের মত নিজের মাটি আঁকড়ে ধরে।

–মাথায় দিবি সর্ষের তেল। চুল কালো হবে। গায়ে মাখবি নারকোল তেল। রং চিকণ হবে…

যদি বর্ষে আগনে রাজা যান মাগনে।

  যদি বর্ষে পোষে, কড়ি হয় তুষে।

  যদি বর্ষে মাঘের শেষ, ধন্যি রাজার পুণ্যি দেশ।

  যদি বর্ষে ফাগুনে, চিনা কাউন দ্বিগুণে।

                            ***

‘৮৪র মাঘ মাসে অবশেষে সেই ঘটনাটি ঘটে। দুপুরবেলা খাওয়ার পর পূর্ণলক্ষ্মী বিছানায় উঠে ইশারায় বড়বৌমাকে বলেন ফ্যানটা চালিয়ে দিতে। পুজোর ঠিক পরে পরেই তখনও কলকাতায় একটা হিম ভাব হতো। মাঘ মাসে লেপ। প্রীতি তবুও ফ্যান চালিয়েছিলেন। একবার নেমে বাথরুমে গিয়েছিলেন পূর্ণলক্ষ্মী। তারপর শুয়ে পড়েছিলেন শেষবারের মত। ডাক্তার ডাকার সুযোগ তাঁর খোকনের মত তিনিও দেননি।

                            ***

সেদিন একটু সকাল সকালই বাড়ি ফিরছিলো সোনা। রাস্তা থেকে তাদের বারান্দা দেখা যায়। দেখলো বারা্ন্দার দরজা বন্ধ। মা বেরিয়েছে। বৌদির থেকে চাবি নিতে হবে। বেল বাজাতে হয়নি। চারতলায় পাশের ফ্ল্যাটের দরজা খোলা। স্বপ্না বৌদির শ্বশুরমশাই একটা চেয়ার নিয়ে একেবারে দরজার সামনে বসে আছেন। কে বলেছে ‘বড়’ মেয়েরা ভ্যাঁভ্যাঁ করে কাঁদেনা? তবে সবার সামনে প্রাণ থাকতে নয়।

গলির মাথায় পৌঁছে আর কিছু বোঝার বাকি ছিলনা। প্রতিটা বাড়ির বারান্দা আর ছাদে ভিড়। ‘সেজদি’ চলে গেলেন। এ গলির খুব কম বাড়িতেই মাথায় আধো ঘোমটা, একটা পাতলা তসরের চাদর জড়িয়ে কাজের লোকটির হাতে ডাক্তারি বাক্স দিয়ে পূর্ণলক্ষ্মী অন্ততঃ একবার যাননি, এমনটা ঘটেছে।। হয় ব্লাড প্রেশার মাপা, নয় ইন্ট্রাভেনাস। রাতবিরেতে, ভরদুপুরে সেজদিই গতি।

দিদার ঘরে ভিড়ের একপাশে বসে সোনা শুধু ভাবছিলো দিদা এত সুন্দর ছিল আগে বোঝেনি তো? মাখনের মত ছোট্ট শরীর আর লম্বাটে মুখটা ঘিরে রেশমের মত সোনালী চুল। খালি শিরা ওঠা পাকানো হাতদুটোই কেন যেন বেশী চোখে পড়তো সোনার ইদানিং…

সন্ধ্যে নাগাদ পূর্ণলক্ষ্মী দেবী তসর টসর, চন্দনের ফোঁটা পরে মাথার নীচে গীতা আর সোনালি ফ্রেমের চশমাটি নিয়ে রওনা দিলেন। রেখে গেলেন পোড়ামাটির জলের কুঁজো, ছোট ছোট জলচৌকি, লক্ষ্মীর তোরঙ্গ আর তামার হাতল দেওয়া সিন্দুক। ফুলের টুকরিটাও ছিল বহুদিন গুরুদেবের আসনের পাশে। আঁকশিটা বারান্দায় জলঝড়ে ক্ষয়ে গিয়েছিলো। ও হ্যাঁ,বলতে ভুল হয়ে গেছে, লক্ষ্মীর টুকরিতে রাখা ছিলো বহুদিনের জমানো শেষ পারাণির কড়ি। শ্রাদ্ধে লাগবে। ও বস্তু ছাড়া কি বৈতরণী পার হয়!

 ভাগ্যিমানী সেজবৌ এর জন্যে স্বর্গে যাবার বাঁশ গাড়ি আসেনি। দিনকাল বদলেছে। তাছাড়া ছেলেদেরও তো বয়েস কম হলোনা। ঝকঝকে কাঁচের গাড়িতেই উঠলেন তিনি। আস্তে আস্তে গাড়ি নড়ে উঠলো..পিছন পিছন চলেছে টমি। করুণা একবার কাঁপা গলায় বললেন, “টমি চলে আয়…মা তোকে নেবেনা, মা রেগে গেছে”। কোনও তোয়াক্কা না করে টমি ছুটলো গলির মোড় পর্যন্ত। তারপর আস্তে আস্তে ফিরে এসে সোজা ঢুকে গেলো ফাঁকা খাটের নিচে। দশদিন তাকে কেউ বার করে একফোঁটা খাবার খাওয়াতে পারলো না। দশদিনের মাথায় সেও রওনা দিলো।

                                 ***

বাড়িটা এখনো আছে। প্রসন্ন ভবন।দু একজন পুরোনো মানুষ এখনো সেখানে টিমটিম করছে। প্রতি বছরই পা টেনে টেনে একবার যায় সোনা। পুরোনো খাটে বসে আবার একবার পুতুলের আলমারির মেমপুতুল, দেওয়ালে ষোড়শীবালা, সব জরীপ করে। তারপর বেরিয়ে এসে পিছন ফিরে একবার ছাদের চুড়োয় কলসটাকে দেখে। ভাবে “একটা ছবি তুলে রাখা দরকার…” কিন্তু সে আর হয়ে ওঠেনা কোনওবারই।

কিন্তু ছবিটা তুলতেই হবে। তারপর সেটা তোলা থাকবে সোনার লক্ষ্মীর তোরঙ্গে আরও টুকরো টাকরা জিনিসের সঙ্গে। কোনও একদিন সেও কাঁপা কাঁপা হাতে ডালা খুলে কাউকে বলবে, “যা যা পছন্দ তুলে নে…তোর জন্যেই রাখা ছিলো”।

সমাপ্ত

  প্রচ্ছদ: http://abpananda.abplive.in/state/2013/10/18/article148969.ece/%E0%A6%86%E0%A6%9C

Advertisements

About purnachowdhury

I am a person of and for ideas. They let me breathe.
This entry was posted in Uncategorized and tagged , , , , . Bookmark the permalink.

3 Responses to পূর্ণলক্ষ্মীর একাল সেকাল (অন্তিম পর্ব)

  1. Pingback: পূর্ণলক্ষ্মীর একাল সেকাল (অন্তিম পর্ব) | Methinks…

  2. খুব সুন্দর ক রে শেষ করেছো – ভালো লাগলো ।

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s