পূর্ণলক্ষ্মীর একাল সেকাল (সপ্তদশ পর্ব )


Image

জোড়া কনের একজন যে মিনতি সে আর বলে দিতে হয়না। একই দিনে একই লগ্নে দুই কন্যা দান। বীরেন্দ্রনাথ শুধু একবার পূর্ণলক্ষ্মীকে বলেছিলেন, “একই দিনে আমার বুকের দু দুটো পাঁজর খুলে নেবে”!  কিন্তু সে কথার  কথা। যে মাকে সাত মেয়ে পার করতে হয় তার  অত শৌখিনতা পোষায়না।

 

—আমি সবে অণিমার গয়নার ফর্দ নিয়ে বসেছি, করুণা কলেজ থেকে ফিরে ঝপাং করে ব্যাগটা চেয়ারের ওপর ফেলে দিয়ে বললো, “শিলাকেও পার করে দাও না একই সঙ্গে”! আমি বললুম, পার করা কি মুখের কথা? পাত্র কোথায়? বলে, “কেন, দিদি তো বলছিলো ওর খুড়শাশুড়ি ডলুর জন্যে পাত্রী খুঁজছেন”! খানিক হাঁ করে তার দিকে তাকিয়ে থেকে বললুম, আমি বলবো আর অমনি হবে? তাছাড়া একবাড়িতে দুই বোন? তাঁরা রাজিই বা হবেন কেন? তুই ধরেই নিচ্ছিস তাঁরা রাজি হবেন? বলিহারি তোমার বুদ্ধি, মা! তোর ছোড়দি মাসির মাথায় তো বরাবরই যেটি ঢুকবে সে আর বেরোবে না। পরেরদিন সকালবেলা চা খাচ্ছি, সে আমাকে কিছু না বলে কয়ে শোভনার শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে  দেখি বলছে “মা একটু নয়া খুড়িমার সঙ্গে কথা বলবেন”।  বলে আমার হাতে রিসিভর দিয়ে মেয়ে দারোগার মত দরজা থেকে আমায় পাহারা দিতে লাগলো।

 

মিনতির ডাক নাম শিলা। এই মেয়ের থেকেই লাহিড়ী বাড়িতে মেয়েদের ডাক নামের চল হ’লো। শীলা নয়, শিলা। পূর্ণলক্ষ্মীর এই মেয়েটির জন্ম হয়েছিলো কালীঘাটে মামাবাড়িতে। মেয়ে যখন জন্মায়, তখন বাইরে প্রচণ্ড শিলাবৃষ্টি। পূর্ণলক্ষ্মীর জ্যেঠিমা মেয়ের রং দেখে বলেছিলেন . “কোথায় যাবো মা, এ যে দেখি ঘরে বাইরে শিলা”! এই মেয়েটির মধ্যেই  খানিকটা মায়ের আদল পাওয়া যায়, যদিও মায়ের চেহারা পুরোপুরি কোনও মেয়েই পায়নি। ফিনফিনে পাখির মত চেহারা শিলার আর বেজায় ছটফটে । পড়াশুনোয় খুব মন নেই।  দাদা আর ভাইদের  সঙ্গে জুটে যত দুষ্টুমি ছোটবেলা থেকে।  ছোটবেলায় অণিমা বড় ভয় পেতো এই বোনটাকে। কুকর্মের  সঙ্গী হতে না চাইলেই পিঠের ওপর গুম গুম। ছোটবোনের হাতে মার খেতে কারই বা ভালো লাগে।  কিন্তু এই মেয়েই শা্ন্ত হয়ে গান শুনতে পারতো ঘন্টাভোর।  গলাটিও ছিলো রিনরিনে।  মেয়ের গান আড়াল থেকে শুনেই বীরেন্দ্রনাথ মেয়েকে পণ্ডিত চিন্ময় লাহিড়ীর কছে গচ্ছিত করেছিলেন। রীতিমত নাড়া বেঁধে শুরু হয়েছিলো সেই পর্ব।  সেই মেয়েকে কেন যে…সে যাই হোক্ । 

 

সারা রাজ্যির লোকের সঙ্গে ভাব শিলার। কলেজে পড়ার সময়েও কোনও মজার গন্ধ পেলেই কোমরে আঁচল জড়িয়ে দে ছুট্ । তাই সেদিন সন্ধ্যের ঝোঁকে বরেন্দ্রনাথ আর বারীন্দ্রনাথ, পলি আর বুলু এসে এই বোনটাকেই ডেকেছিলো সিঁড়ির মোড় থেকে: “শিলা শিগ্গির আয়, টুটুদা উত্তমকুমারকে তাড়া করেছে…”

 

ওসব কিস্যু না। অশ্বথ্থামা হত ইতি  গজঃ। সব শিলাকে নাচানোর ফন্দী। ‘সাড়ে চুয়াত্তরে’র  সময় থেকেই সেনবাড়িতে খুব জোরালো পার্টি হতো শনি রবিবার। মিসেস সেনের পার্টিতে উত্তমকুমার আসবেন না তা হতেই পারেনা। তা সেদিনও তিনি যথাসময়ে এসে পৌঁছেছিলেন। মিস্টার সেন সম্ভবতঃ তার বেশ কিছু আগে থেকেই খানিক রসস্থ হয়েছিলেন। শিলা কে যখন ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন  তিনি গেটের সামনে উত্তমকুমারকে সম্মুখ সমরে আহ্বান করছেন। এবং নায়ক (তখনও তিনি ‘মহা’ হয়ে ওঠেননি) রুমাল দিয়ে ঘাম মুছছেন এবং মিস্টার সেনের বীরত্ব ব্যঞ্জক আহ্বান সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করছেন। এই নাটক খুব বেশি প্রলম্বিত হয়নি। বাড়ির বিহারি দারোয়ান খুব তাড়াতাড়ি রঙ্গমঞ্চে অবতীর্ণ হয়ে অবস্থা আয়ত্তের মধ্যে এনে ফেলে। এবং সমবেত  জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে সক্ষম হয়। শিলা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে সিঁড়ির মাথায় বাঘিনীর মুখে পড়ে এবং সে ছাড়া আর কোনও ‘ভদ্রলোকের বাড়ির মেয়ে’ ঐ ‘বায়োস্কোপ’  দেখতে গিয়েছিলো কিনা ইত্যদি নানান কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে বাধ্য হয়। ঘটনার ফলস্বরূপ বিশ্বাসঘাতিনী অণিমা এবং তস্য ভগিনীর এক সপ্তাহ কথা বন্ধ থাকে।

 

  এর ঠিক পরেই মিসেস রমা সেন বালিগঞ্জ প্লেস ছেড়ে নিজের বাড়িতে চলে যান।
             বছরখানেক পরে শিলার বিয়ে ঠিক হয়ে যায় শোভনার খুড়তুতো দেওর জ্ঞানেশ ওরফে ডলুর সঙ্গে। মেয়ে দেখার প্রশ্নই নেই। “অ’রে তো ডলু আইট বৎসর ধইরা দ্যাখতাসে। আইর দেইখ্যা কাম নাই। অহন ভালোয় ভালোয় দুই হাত এক হইলেই অয়”।

 

শিলার একটু আপত্তি ছিলো। পায়ে পায়ে  পূর্ণলক্ষ্মীর কাছে গিয়ে বলেছিলো, “আট বচ্ছর ‘ডলুদা’ ডেকে তাকে বিয়ে করা যায়”? পূর্ণলক্ষ্মী খবরের কাগজ পড়তে পড়তে মুখও তোলেননি। বলেছিলেন. “ও বরের সাজে  দেখলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। আর জ্বালাসনি”। বিয়ের পরে অবিশ্যি শিলার দিদিশাশুড়ি নাতবউকে বলেছিলেন, “আমিও বাবারে কইসিলাম আমি শরৎ দাদারে বিয়া করতাম না”! শ্রী শরৎচন্দ্র চক্রবর্তী ছিলেন শ্রী জ্ঞানেশ চন্দ্র পত্রনবীশের মাতামহ এবং জ্ঞানেশ চন্দ্রের মাতামহী যেকালে তাঁকে প্রত্যখ্যান করার প্রয়াস পান, সেইকালে মাতামহী বা ‘আজি-মা’ শ্যামাসুন্দরীর বয়েস সাত।  শরৎ চন্দ্রের বাইশ।

জোড়া বিয়ে নির্বিঘ্ণে মিটেছিলো। শুধু বাসি বিয়ের দিন একটা ভারি বিপদ হয়েছিলো। শিলার শ্বশুর যখন বাইশ নম্বর লেডিকেনিটি খাবেন বলে মনস্থির করেছেন,  বীরেন্দ্রনাথ তাঁর নতুন বৈবাহিকের পাশে বসে খুব মিনতির সুরে বলেছিলেন, “আপনার আর মিষ্টি খাওয়াটা বোধহয় সমীচিন হবেনা”। শ্রী রমেশ চন্দ্র পত্রনবীশ তাঁর সভাবসিদ্ধ  অট্টহাস্যে ঘর ভরিয়ে ফেলেছিলেন। ব্যাপারটা আর গড়ায়নি।

দুই বোন সেই প্রথম সকাল থেকে রাত আলাদা হয়েছিলো। তাদের মশারি খাটানো নিয়ে ঝগড়া হয়নি। গভীর রাতে দু বোনের খিলখিল হাসিতে পূর্ণলক্ষ্মীর ঘুম ভেঙ্গে যায়নি।   দুই বোন দুটো সম্পূর্ন নতুন মানুষের সঙ্গে ঠিক পাশাপাশি ঘরে বসেছিলো সারারাত।মনের ভেতর চোরা স্রোত থাকে। বোঝা যায়না।  হঠাৎ হঠাৎ তারা ফণা তুলে ধরে। সোনার সেজদিমাসি তকে বহু বছর পরে বলেছিলো, “বাসরে আমার খুব মন খারাপ হয়েছিলো আর খুব রাগ হয়েছিলো শিলার ওপর। শিলার বাসরে সব বোন আর বৌদিদের ভীড়। আর আমার বাসরে হাতে গোনা। হবেনা কেন? আমার বর এল হাট্টাকাট্টা । ঠিক যেন ব্যায়ামবীর। আর শিলার বর এলো যেন বাংলা সিনেমার নায়ক!

বউভাত কলকাতায় জ্যাঠতুতো ভাসুরের বাড়িতে হলেও শিলা তার ঠিক পরেই গিয়েছিলো শ্বশুরের ভিটেতে। তবে শোভনার মত তাকে পালকি করে বাড়রি যেতে হয়নি। ততদিনে রিকশা চলছে মৈমনসিংহর রাস্তায়। শোভনার মত জলেও পড়েনি সে। নীহার রঞ্জনের ভাষা ততদিনে তার শুনে শুনে অভ্যেস হয়ে গেছে। আরও অনেক গরমিল ছিলো দুইবোনের  প্রথম অভিজ্ঞতায়।।

সময়টা ১৯৫৬। ১৯৫০ এ সেই ভয়ানক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা।   পত্রনবীশ পরিবারেও  তার ছায়া পড়েছিলো। মধ্যের বাড়ি পূবের বাড়ি আর দালাইন্যা বাড়ির কর্তারা হাওয়া বুঝে তাঁদের অংশ বিক্রী করে চলে গেছেন ওপারে। দালাইন্যা বাড়ি আর পূবের বাড়ির নতুন ঠিকানা হয়েছিলো আসাম আর ত্রিপুরা। মইধ্যের বাড়ির আস্তানা কলকাতার খিদিরপুর অঞ্চলে। শুধু নয়া বাড়ির কর্তারা ভিটে ছাড়তে রাজি হ’ননি। তাছাড়া রমেশ চন্দ্রর তখন নেত্রকোণা কোর্টে মধ্যগগন পশার। শহরে তাঁর আলাদা বাড়ি। কেন তিনি উদ্বাস্তু নাম কিনতে যাবেন?

তাই শিলার বউভাতে লোক কম ছিলো। আর নিমণ্ত্রিতদের মধ্যে অনেক বেশি ছিলেন মুসলমান প্রতিবেশী । সকালবেলা তাকে গলা পর্যন্ত ঘোমটা দিয়ে বসানো হয়েছিলো বাড়ির উঠোনে। প্রজারা একে একে এসেছিলো রাঙা কর্তার  ছোট ছাওয়ালের বউকে দেখতে। যে যার সাধ্যমত ভেট এনেছিলো। কেউ বা পুকুরের মাছ, কেউ বা টুকরি ভরা সব্জী। এক বৃদ্ধ কে খুব মনে আছে শিলার। সে এসেছিলো ঝকঝকে নতুন কাঁসার ঘটিতে ভরা বলক তোলা দুধ নিয়ে।  শিলা তাড়াতাড়ি উঠে শাশুড়িকে বলেছিলো. “মা, দুধটা ঢেলে নিই”? শাশুড়ি হেসে বলেছিলেন , “ঘটিখানও তোমারে দিসে!”

দৃষ্টি সবার একরকম হয়না। শিলা অবাক হয়ে দেখেছিলো বাড়ির  চৌহদ্দির মধ্যে আম কাঁঠালের অসংখ্য গাছ। সকালবেলা শাশুড়ির মাটির হাঁড়িতে লাঠি ঘুরিয়ে টাটকা দুধের মাঠা তোলা। দুপুরবেলা পা ছড়িয়ে বসা শাশুড়িদের নক্শি কাঁথা সেলাই আর অদ্ভূত সুরেলা টানে হাসি ঠাট্টা।  আর খুব মন দিয়ে বোঝার চেষ্টা করেছিলো  নিজের শাশুড়ি লাবণ্যপ্রভাকে।  সংসারের সঙ্গে যেন আলগা সুতো দিয়ে বাঁধা।  শিলার শ্বশুরমশাই ভালোমানুষ। তাঁকে বোঝা সহজ । আঁকশি দিয়ে ছেলের বউকে আম পাড়তে শিখিয়ে বলেছিলেন, “আমি শিখাইসি তোমার শাশুড়িরে য্যান্ কইয়ো না”। লাবণ্যপ্রভা এক ধাঁধা। তিনি যে কি ভাবেন বোঝা বড় কঠিন।  জ্ঞানেশ তাকে বলেছিলেন. “মা আমাদের ভালোবাসে সেটা বোঝা যেতো যখন আমাদের অসুখ করতো। যতদিন না সারতাম, মা প্রায় সারাটা সময় চুপ করে বসে থাকতো মাথার কাছে। পানটা পর্যন্ত খেতোনা। বাকি সময় আমরা যেন থেকেও নেই”। লাবণ্যপ্রভার গল্প আলাদা। এ গল্প পূর্ণলক্ষ্মীর…

 

দুই জামাই দুই ধরণের। চেহারায়। চরিত্রে। কিন্তু প্রথম আলাপের থেকেই কোথায় এক অদৃশ্য বন্ধন। সে কি দুজন দুই সহোদরাকে বিয়ে করেছিলেন বলে?  না। দুজনেই স্বেচ্ছা নির্বাসনে এসেছিলেন  পশ্চিমবঙ্গে। ১৯৫০ এ একজন চলে এসেছিলেন বিতৃষ্ণায় ।  অন্যজন  রাজনৈতিক প্রতিবাদে।

১৯৫০ এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিস্ট্রি তে এম্ এস্ সি তে ভর্তি হন জ্ঞনেশ।তারপর ছাত্র রাজনীতি। আর ভাষা আন্দোলন।১৯৪৮সালেপাকিস্তানসরকারঘোষণাকরে, উর্দুইহবেপাকিস্তানেরএকমাত্ররাষ্ট্রভাষা।   ১৯৫২সালের২১ফেব্রুয়ারি  ঢাকার সেনেট হলে মুখ্যমণ্ত্রী লিয়াকত আলি খান এবং মোহম্মদ আলি জিন্নাহ্  এই ঐতিহাসিক সত্যটি আবার ঘোষণা করেন।  এক মূহুর্তের নীরবতা। তারপরেই  হলের মধ্যে সমবেত “না” !!!! সেই ঐতিহাসিক মূহুর্তে জ্ঞানেশের জীবন অন্যদিকে মোড় নিয়েছিলো। 

একটা  মিছিল বেরিয়েছিলো সেদিন ঢাকার রাস্তায়।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু ছাত্র, অধ্যাপক,বুদ্ধিজীবিরা আর প্রগতিশীল কিছু মানুষ  মিলে মিছিলটা শুরু করেন। মিছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের কাছাকাছি এলে পুলিশ ১৪৪ ধারা অবমাননার অজুহাতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালায়। গুলিতে মারা যায় রফিক, সালাম, বরকত-… আরও অনেকে। সেই মিছিলে ছিলেন জ্ঞানেশও।

তারপর ঢাকায় ১৪৪ধারা।সমাবেশ-মিছিলইত্যাদি  ‘বে-আইনীও  নিষিদ্ধ’ঘোষণা। পরের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি দীর্ঘ তালিকা  ঝুলিয়ে দেন বোর্ডে: “এতদ্বারা জানানো হইতেছে…”
যেসব ছাত্র নেতা ২১শে ফেব্রুয়ারি সরকার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় রূপে সামিল ছিলো, তাদের একবছরের জন্য ‘বহিস্কারের আদেশ’। তার মধ্যে অবশ্যই একটা নাম জ্ঞানেশ চন্দ্র পত্রনবীশ। একবছর পূর্ণলক্ষ্মীর ন’ জামাই পুরোনো ঢাকার এক হিন্দু পরিবারে বাড়ির মেয়ের টিউটর হয়ে ছিলেন। পরের বছর পরীক্ষা দিয়ে সীমান্ত পার।  তারপর মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ কলেজে কেমিস্ট্রি পড়ানোর কাজ। তারও বছর দুয়েক পরে শিলা। ১৯৫৬ সালে সংবিধান পরিবর্তন করে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অসীম কৃপা পাকিস্তান সরকারের। কিন্তু জ্ঞানেশ আর ফেরার কথা ভাবেননি। বহু পরে কলেজে পড়া মেয়েকে বলেছিলেন , “পূর্ব পাকিস্তান আসলে পশ্চিম পাকিস্তানের একটা  উপনিবেশ সেটা বুঝে গিয়েছিলাম। তাই আর ফিরিনি। And I don’t regret it.”  জ্ঞানেশের এই ধারণা যে খুব ভুল ছিলোনা, সেটা বোঝা গিয়েছিলো আরও চোদ্দ বছর পরে।

কথায় আছে রাজায় রাজায় দেখা হয়, কিন্তু বোনে বোনে দেখা হয় না। কোথায় গড়চা রোড আর কোথায় মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ। গঙ্গার পারে একটা দোতলা বাড়ির ছাদে ছোট্ট দুই কামরা আর রান্নাঘর নিয়ে সংসার পেতেছিলো শিলা। ছাদ জুড়ে ছোট বড় টবে গোলাপ ডালিয়া করবী দিয়ে বাগান ৈরী করেছিলো। গ্রীষ্মকালে যখন কলকাতায় যেত, তার মন পড়ে থাকতো  রঘুনাথগঞ্জে।  ১৯৬১ তে সোনা। লাবণ্যপ্রভা লিখেছিলেন :
“কল্যাণীয়াসু মা শিলা:

বেয়ানের পত্রে খবর পাইলাম। কন্যা সন্তান হইয়াছে বলিয়া দুঃখ করিও না। তোমার শ্বশুর কূলে কন্যারা বড় আদরের। জন্ম তিথির সঙ্গে মানাইয়া উহার নামকরণ করিলাম পূর্ণিমা। সে তোমাদের জীবন আলোকিত করুক”।
ইতি
 আশীর্বাদিকা শ্রী লাবণ্যপ্রভা দেবী।

                                                           ***

সুখেও খাদ থাকে। শিলার স্বামীর জগৎ জুড়ে রবীন্দ্রনাথ। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ভালোবাসে ঠিকই, কিন্তু শ্বাস প্রশ্বাস রবীন্দ্রনাথের গানে। প্রায় সারা গীতবিতান কণ্ঠস্থ। শিলার রাগ রাগিণী তে কবেই মরচে ধরে গেছে।
সোনার মনে ছোট ছোট ছবি আছে: মা জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে গাইছে:
“ত্রিবেণী তীর্থ পথে কে গাহিলো গান…”

Bhashaandolon:http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0

(ক্রমশঃ)

 

 

Advertisements

About purnachowdhury

I am a person of and for ideas. They let me breathe.
Aside | This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

One Response to পূর্ণলক্ষ্মীর একাল সেকাল (সপ্তদশ পর্ব )

  1. Pingback: পূর্ণলক্ষ্মীর একাল সেকাল (সপ্তদশ পর্ব ) | Methinks…

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s