পূর্ণলক্ষ্মীর একাল সেকাল (ষোড়শ পর্ব )


Image

ঝাঁপ দিয়ে ১৯৫০-এ পড়লেই তো হলোনা…১৯৪৭ থেকে ৫০ বড় দুঃখ আর মান অভিমানের সময়। গান্ধির পাশে যে শান্ত মানুষটি দীর্ঘ ছায়া হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন  এক দশক জুড়ে, কংগ্রেসের দেশভাগের সিদ্ধান্ত  গ্রহন করায় বড় অভিমান করে ভারত ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন. “তোমরা আমাদের ত্যাগ করলে”। কংগ্রেস এর কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি। ত্যাগপত্র মাথা পেতে নিয়ে নিজের পাহাড়ি পাথুরে দেশে চলে গিয়েছিলেন, কিন্তু কোনওদিনই পাকিস্তানকে নিজের দেশ বলে মেনে নেননি। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সোনা তার বাবার সঙ্গে রাজাবাজার সায়েন্স কলেজে গিয়েছিলো এক বৃদ্ধের সংবর্দ্ধনা সভায়। বাবা মেয়েকে বলেছিলো, “ঈশ্বর আছেন কিনা ঠিক জানিনা, কিন্তু ঈশ্বরের মত কিছু মানুষ এখনও আছেন। সেরকম একজনকে আজ দেখবে চলো। আসল নাম খান্ আবদুল গফ্ফর খান। আমরা ডাকতাম সীমান্ত গান্ধী”।

 

তখন তাঁর বয়স আশির কোঠায়। সর্বস্ব একটি পুঁটলিতে বেঁধে সেই পুঁটলি সমেত লাঠি হাতে মঞ্চে উঠিছিলেন তিনি সংবর্দ্ধনা নিতে। তারপর ভাঙা উর্দু হিন্দী মেশানো ভাষায় নিদন্ত মুখে হাসতে হাসতে বলেছিলেন, “কি সুন্দর দুটো বতন  আমরা উপহার পেয়েছি ব্রিটিশদের থেকে…দুই দেশই  ভিক্ষাপাত্র হাতে আমেরিকাকে বলছে : “হমেঁ চাওল দো, হমেঁ গেহুঁ দো। এই উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তো আমরা জীবন বিসর্জন দিতে তৈরী ছিলাম”!

 

‘ভর্ৎসনা’  শব্দটার মানে বুঝতে তারপর থেকে আর একটুও অসুবিধে হয়নি সোনার।

 

 
–“মেনে নেওয়া, মানিয়ে নেওয়া বড় শক্ত কাজ রে…অনেকেই পারেনা”।
ঠিক যেমন বাদশা খান পারেননি। পারেননি নীহার রঞ্জন আর তাঁদের বংশের প্রথম মেয়ে, শোভনার বড় ননদ অতসীবালা। ‘বাঙাল’ শব্দটি বড় অপছন্দের ছিলো নীহার রঞ্জনের। যদিও তাঁর পরিবার যাদবপুরে বড়লোকদের পড়ে থাকা জমি জবর দখল করে ‘উদ্বাস্তু’ নাম কেনেনি। সারা জীবন তাঁর ‘আধুনিকা’  স্ত্রীর সঙ্গে মৈমনসিংহের  ভাষা বই অন্য কোনও ভাষায় কথা বলেননি। এমনকি শোভনা যখন খুব রাগ করে ইংরেজিতে কিছু বলেছেন, যোগ্য প্রত্যুত্তর ঐ ভাষাতেই পেয়েছেন, যদিও ‘খাইতাম না যাইতাম না’ ভাষা কোনওদিনই শোভনা রপ্ত করতে পারেননি।

 

তবে নীহার রঞ্জনের ‘দিদিমণি’ অতসীবালা ছিলেন আরও সরেস। ষাটের দশকে দুই দেশের মাঝে যখন কাঁটাতারের বেড়া পড়লো, তখনও তিনি সমানে চোরাপথে এপার ওপার করেছেন বাপের বাড়ি শ্বশুরবাড়ির কাকুতি মিনতি  অগ্রাহ্য করে। শুধু এপারে চলে আসা ভাইবোনদের দেখতে আসতেন তিনি।  সঙ্গে থাকতো দুতিনটে মস্ত বড় ক্ষীরের গোলা। সেই ভেঙ্গে মিষ্টি তৈরী করতেন ভাইফোঁটা উপলক্ষ্যে। এবং নীহার রঞ্জন প্রতিবারই বলতেন, “তুই আবাইর আইসস্ ?” আর মৃদুভাষিণী অতসীবালা উত্তর দিতেন. “হ।”

 

সে যাই হোক, ’৪৮ থেকে  ’৫৫ একটা সুড়ঙ্গর মত। রাস্তা তৈরি কিন্তু পথ ভালো দেখা যায় না। দুদেশের টাকা সম্পত্তি এপার ওপার, উদ্বাস্তু পুনর্বাসন, কংগ্রেস সরকারের অপটু শিক্ষানবিশী শাসন…এইসব মিলেই সেই সময়।  এছাড়া ৪৮ এ ৩১শে জানুয়ারী যে অন্ধকার নেমে এসেছিলো, সে অন্ধকার কাটেনি তখনো।

 

—“কিছু  হলেই আমরা বলতুম গান্ধী থাকলে এ কিছুতেই হতে দিতেন না। ঠিক অনশনে বসতেন। ঠিক যেমন বসেছিলেন Riot থামাতে…”

 

‘৫৫র আশেপাশে লাহিড়ী বাড়ির অবস্থাও খুব মসৃন নয়। বীরেন্দ্রনাথ থিতিয়ে আসছেন। শরীরের কারণে মাঝরাত পর্যন্ত বৈঠকখানায় আর আলো জ্বলেনা। যদিও তার আঁচড় তখনও পরিবারের গায়ে পড়েনি। তবে আরও দুটি মেয়ে বিবাহযোগ্যা।

 

শোভনা আর করুণার পরে বরেন্দ্রনাথ। তার পর অণিমা আর মিনতি। পিঠোপিঠি বোন। বয়সের তফাৎ পুরো দুবছরও নয়। যত ঝগড়া তত ভাব।  সেজ মেয়ে অণিমাকে নিয়ে চিন্তা ছিলো পূর্ণলক্ষ্মীর। জন্ম থেকেই একটা খুঁত ছিলো অণিমার। তার কোমর থেকে গড়ন ঠিক সুষম নয়। ডানদিকটা একটু ছোট আর দুর্বল। সামান্য পা টেনে চলে। স্কুলে কোনওদিনই স্পোর্টসে নাম ওঠেনি। নিজের চতুর্দিকে একটা আড়াল ছিলো তার। সেজ মেয়েকে একটু ভয়ই পেতেন পূর্ণলক্ষ্মী। শোভনার মত খোলামেলা না, করুণার মত বেপরোয়া না। কিন্তু অসম্ভব জেদী আর চাপা।

 

—“একটু ফিটের ব্যারামও ছিলো তোর সেজমাসির। রাগ হলে তোর মায়ের মত তিড়িং তিড়িং করতো না। হঠাৎ চোখ মুখ উলটে পড়ে যেতো। কত ডাক্তার দেখিয়েছি…কিচ্ছু হয়নি। তবে মেয়ের মাথা ছিলো করুণার থেকেও পরিস্কার। তাই খুব চিন্তা করতুম না। ভাবতুম  বিয়ে যদি নাই দিতে পারি, ও মেয়ে নিজের ভাগ্য নিজে গড়ে নেবে”।

 

৪০ দশক থেকেই মেয়েদের ভাগ্য তৈরীর পালা শুরু হয়েছে। কলেজ থেকে ইউনিভার্সিটি, তারপর স্কুল কলেজে, এমনকি সরকারি সংস্থায় চাকরি…হাতে গোনা, তবু তারা ছিলো।  করুণার মত মেয়েদের দেখলে মেয়ে মহলে আড়ালে আবডালে কথা হয় বটে, কিন্তু কেউ ভির্মি খায়না, বা গায়ে পড়ে মেয়ের মা’কে দুকথা শুনিয়ে যায়না।  

 

মেয়েদের জীবন তখন অন্য ধাঁচে লেখা শুরু হয়ে গেছে। সাত মেয়ের মা পূর্ণলক্ষ্মী সেটা জানতেন। বুঝতেন। ১৯৪৮ এ আর একটা  ঘটনা ঘটে বালীগঞ্জ প্লেসে । লাহিড়ী বাড়ির গলি থেকে বেরিয়ে একটু বাঁদিকে ঘুরলেই ঠিক উল্টোদিকে আদিনাথ সেনের বাড়ি। তাঁর ছোট ছেলের বউ হয়ে এলো রমা দাশগুপ্তা।  

Image

—“ঐ যে তোমাদের সুচিত্রা সেন।  খুব ডানাকাটা পরী ছিলোনা বাপু, পষ্ট কথায় কষ্ট নেই। একটু লক্ষ্মী ট্যারাও ছিলো। কিন্তু কি লাবণ্য কি লাবণ্য। শ্বশুরের খুব আদরের বউ ছিলো। আদিনাথবাবু যে কোনও সামাজিক কাজকম্মে ওকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন। আমার ঐ তখনই যা দেখা। বড় শান্ত মেয়ে ছিলো। আদিনাথ বাবু তো ছিলেন পাকা মাথার মানুষ, তাই বুঝে শুনেই সাধারণ পরিবারের মেয়ে এনেছিলেন। ছোট ছেলেটি তো রত্ন! তারপর একদিন শুনলুম  সেনবাড়ির ছোটবউ সিনেমায় নেমেছে বরের পাল্লায় পড়ে। তাতে মন্দের ভালো হয়েছিলো, নাহলে একদিন তাকে বিষ খেতে হতো। তোর সেজমাসি আর মা ছিলো তার fan, বুঝলি?! অণিমার তো গলায় অত সুর ছিলোনা। তাই ওকে উনি এস্রাজের তালিম দিইয়েছিলেন। সুরের সুরধুনি ছিলো তোর মা । রমার সিনেমার সব গান থাকতো তার ঠোঁটের ডগায়। ”

জানে সোনা। মার গলাতেই প্রথম শুনেছিলো:

 

  গানে মোর কোন ইন্দ্রধনু আজ স্বপ্ন ছড়াতে চায়

হৃদয় ভরাতে চায়।।

 

মিতা মোর কাকলী কুহু

সুর শুধু যে ঝরাতে চায়

আবেশ ছড়াতে চায় প্রাণে মোর।

 

মৌমাছিদের গীতালী, পাখায় বাজায় মিতালী।।

মিড় দোলানো সুরে আমার কন্ঠে মালা পরাতে চায় হায়

 

মিতা মোর কাকলী কুহু

সুর শুধু যে ঝরাতে চায়

আবেশ ছড়াতে চায় প্রাণে মোর।

 

বাতাস হলো খেয়ালী, শোনায় কি গান হেঁয়ালি

কে জানে গো কার বাঁশী আজ কি সুর প্রাণে ধরাতে চায় হায়।

 

মিতা মোর কাকলী কুহু

সুর শুধু যে ঝরাতে চায়

আবেশ ছড়াতে চায় প্রাণে মোর।

 

 

সুচিত্রা সেন বাঙালী মেয়েদের জীবনে একটা স্বপ্ন অথবা সম্ভাবনা।। সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়েদের  জন্য  একটি দরজা খুলে দিয়েছিলেন তিনি সেই সময়ে; তাই না তাঁকে ঘিরে সেই সময়ের মেয়েদের এত জল্পনা! তার ওপর সে যদি আবার হয় পাড়ার বৌ, তাহলে তো কথাই নেই!

অণিমারও লাবণ্য ছিলো। আর সুচিত্রা সেনের মত কনুই পর্যন্ত ব্লাউজ আর শড়ির আঁচল কোমরে গুঁজে পরতো সে। গালে তর্জনী দিয়ে একটা ছবিও তুলেছিলো ঐ সাজে। ঘাড়ের পাশ দিয়ে লতিয়ে থাকা বিনুনী আর ঠোঁটে তেরচা হাসি।। ওটাই তার বিয়ের ছবি। এক ছবিতেই বিয়ে।

অণিমারও শ্বশুরবাড়ি মৈমনসিংহ। তারও এক গল্প: অণিমার শাশুড়ি ছিলেন সুষং এর রাজ পরিবারের দৌহিত্রী। অণিমার দিদিশাশুড়ি তিনদিন প্রসব বেদনা সহ্য করে একটি প্রতিবন্ধী মেয়ের জন্ম দিয়েছিলেন। অণিমার শাশুড়ি ভালো করে হাঁটতে চলতে কথা বলতে পারতেন না। এমনকি শাড়িটাও পরিয়ে দিতে হতো। সেই মেয়ের বিয়ে দেওয়ার সময় খোঁজ করা হয়েছিলো কোনও গরীব ব্রাহ্মণ পরিবারের ছেলের। অবশেষে পাওয়া গিয়েছিলো পছন্দসই পাত্র। প্রচুর জমিজমা আর নগদ কুলমর্যাদা দিয়ে ছেলেটিকে প্রায় কিনেই নিয়েছিলেন অণিমার দাদাশ্বশুর । জামাইয়ের নাম লক্ষ্মীনারায়ণ রায়। তাঁরই ছেলে হীরেন্দ্রকিশোরের সঙ্গে অণিমার বিয়ে ঠিক হয়।

–“আমার মনটা বড় দমে গিয়েছিলো। একে ঘরজামাই এর বংশ, তার ওপর শাশুড়ী অমনধারা। চিন্তা হয়েছিলো অণিমার ছেলে মেয়েরা যদি অমনি হয়? অণিমাকে সব জানিয়েছিলাম। সে কোনও আপত্তি করেনি। বলেছিলো ‘তোমরা যদি ভালো বোঝো…’ ”

হীরেন্দ্রকিশোরের ছোটবেলা কেটেছে দিদিমার কাছে। দুই নাতি নাতনী দিদিমাই মানুষ করেছিলেন।  মায়ের ছেলেমেয়ে মানুষ করার ক্ষমতাই ছিলোনা। তবে কোথাও খানিকটা অনুভূতি নিশ্চয়ই ছিলো। ঠিক তিনটি শব্দ নাকি জড়িয়ে জড়িয়ে উচ্চারণ করতে পারতেন অণিমার শাশুড়ি: ‘মা’ ‘খুকি’ আর ‘খোকা’।  মাকে বেশিদিন দেখতেও পায়নি ছেলেমেয়েরা। দিদিমাই একরকম  তাদের মা। নাতনীর বিয়ে তিনি দিয়ে যেতে পেরেছিলেন। তিনি চলে যাওয়ার পর  বাবা এসে ছেলেকে ঢাকায় তাঁর নিজের কর্মস্থলে নিয়ে গিয়েছিলেন। তারপর সোজা একটি ব্রিটিশ স্কুলে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন  পাঠশালায় পড়া ছেলেকে। বাবা ছেলের অপটু সংসার চালানোর জন্যে ছিলো একজন অল্পবয়সী মুসলমান কাজের ছেলে। তাকে একরকম লক্ষ্মীনারায়ণ রায়ই বড় করেছিলেন।  স্কুল শেষ করে হীরেন্দ্রকিশোর ঢাকা কলেজে ইংরেজি সাহিত্য পড়তে ঢুকেছিলেন। সাধ ছিলো সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দেবেন। দেওয়া হয়নি। ১৯৪৭ এ দেশভাগ। হীরেন্দ্রকিশোরের মামারা মৈমনসিংহের সম্পত্তি বিক্রী করে পাকাপাকি কলকাতায় চলে আসেন। ভগ্নীপতিকেও বুঝিয়েছিলেন তাঁরা। তিনি রাজী হন নি। ১৯৫০-এর দাঙ্গায় নিজের বাড়ির সামনে খুন হয়ে যান লক্ষ্মীনারায়ণ রায়। পেছন থেকে তাঁকে ছোরা মেরেছিলো সেই মুসলমান ছেলেটি। শুধু আততায়ীর নামটা তিনি বলে যেতে পেরেছিলেন।

কিচ্ছু লুকোননি হীরেন্দ্রকিশোরের মামা। বীরেন্দ্রনাথের তাতেই বড় শ্রদ্ধা হয়েছিলো পরিবারটির ওপর। যেদিন লক্ষ্মীনারায়ণ মারা যান, তার পরের দিনই তাঁর ছেলে একবস্ত্রে কলকাতার পথে বেরিয়ে পড়েন। সোজা মামাবাড়ি। সেখানেই বাকি পড়াশোনা শেষ করে সরকারি চাকরি।

                                                         ***

 

কথা হচ্ছিলো মেনে নেওয়া মানিয়ে নেওয়া নিয়ে। অনেকে পারে অনেকে পারেনা।  বাদশা খান পারেননি। হীরেন্দ্রকিশোর রায়ও পারেননি। বিয়ের পরে গড়চা রোডে একটা ছোট ছিমছাম ফ্ল্যাটে সংসার শুরু করে অণিমা। বিয়ের পরেই বুঝেছিল তার স্বামীর মনের কোথাও একটা ভয়ানক অন্ধকার কোণ আছে। হীরেন্দ্রকিশোর পূর্ববঙ্গ/ পাকিস্তান প্রসঙ্গ উঠলেই সেখান থেকে চলে যান। তাঁর চেনার জানার মধ্যে যাদের মুসলমান বন্ধু বান্ধব আছে, তাদের সঙ্গে পারতপক্ষে সামাজিকতা করেননা । সেই দলে আছেন বড় জামাই নীহার রঞ্জন। এপার ওপার দুই পারেই তাঁর বহু মুসলমান বন্ধু ।
মেনে নিয়েছিলো অণিমা।  তার যেমন ডান পা টি দুর্বল, তেমনি তার স্বামীর মনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। একটা গভীর লুকোনো ক্ষত থেকে গেছে কোথাও…

 

সে যাই হোক, ১৯৫৫র  ফাল্গুনে কিন্তু শুধু অণিমার বিয়ে হয়নি। পাড়ায়, আত্মীয় মহলে হৈ হৈ পড়ে গিয়েছিলো : বীরেন লাহিড়ী একই দিনে জোড়া মেয়ের বিয়ে দিচ্ছেন!

(ক্রমশঃ)

প্রচ্ছদ: https://purnachowdhury.files.wordpress.com/2014/06/89687-cardnewtop1.jpg
সুচিত্রা সেন: http://wishpicker.com/blog/wp-content/uploads/2014/01/

 

Advertisements

About purnachowdhury

I am a person of and for ideas. They let me breathe.
This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s