পূর্ণলক্ষ্মীর একাল সেকাল (পঞ্চদশ পর্ব )


Image

শোভনার পরে করুণার পালা। তারও বয়েস কিছু বসে নেই শোভনার আর  করুণার মধ্যে মাত্র দুবছরের তফাৎ । এই মেয়েটা খামখেয়ালী, নির্জন প্রকৃতির।  তার ছোট বোনেদের মনে আছে ঐ হাটে- বাজারে বাড়িতে ছোড়দিকে  তারা প্রায় পেতো একটেরে দক্ষিণের ‘চার নম্বর ঘরের দরজার পেছনে দেওয়ালে হেলান দিয়ে চুপচাপ বসে থাকতে। চুপচাপ কিন্তু উদাসীন নয়। হঠাৎ হঠাৎ ভাইবোনদের ওপর চড়াও হত ছোড়দি; কখনও কখনও চুলের জট ছাড়িয়ে দিতে তো কখনও ভাইবোনদের পিঠে গরমকালে পাউডার বুলিয়ে দিতে। করুণার ইংরেজ টিচার ছিলোনা। তাকে গোখলে মেমোরিয়ালেও  পাঠানো হয়নি। সে পড়েছিলো মুরলীধর বালিকা বিদ্যালয়ে, অণিমা আর মিনতির মত। নবম শ্রেণীতে রান্নার ক্লাস করতে হতো ছাত্রীদের। করুণা আগে থাকতে বলে রাখতো বোন দুটোকে।  তারা খালি টিফিন বাক্স ভর্তি করে ছোড়দির রান্না ‘পোলোয়া কালিয়া’ নিয়ে যেত। 

 

— ” ‘গেরস্থ পোষালি’ রান্নায় বড় ‘অচ্ছেদ্দা’ ছিল করুণার। ও রান্নাঘরে ঢুকলেই বড় ভয় পেতুম। মাছ ভাজবে ডোবা তেলে। মাংস রাঁধবে ঘিয়ে। ওনাকে বলেছিলুম তোমার এই রাজেন্দ্রানীর জন্যে  আমীর- ওমরাহ্ জামাই লাগবে”।

 

কথাটি সম্ভবতঃ বীরেন্দ্রনাথের মনে ছিলো। প্রথম সম্বন্ধটি এনেছিলেন এক Stevedore পরিবার থেকে। করুণা তখন সদ্য বি এ পাশ করেছে। মেয়ে দেখতে এসেছিলেন বাড়ির গিন্নীরা। অপছন্দ হওয়ার মত চেহারা ছিলোনা তার। ছিপছিপে শ্যামলা মাঝারি গড়ন। ঘন ঢেউ খেলানো চুল পিঠ ছাপানো। মেধাবী, ঝকঝকে। শোভনার মত গানের গলা ছিলোনা তার, কিন্তু সেতার বাজাতো। পাত্রের মা বলেছিলেন, “মা, একটু বিনুনী খানি খোলো দেখি?” করুণা মধুর হেসে বলেছিলো, “গুছি নেই, আর লম্বা আড়াই  থেকে তিন ফুট। ফিতে দিয়ে মেপে দেখিনি!”

 

এই হলো প্রথমবার। দ্বিতীয়বারের পাত্রটি ছিলো ডাক্তার। আলোকপ্রাপ্ত পরিবার।ছেলে নিজেই এসেছিলো মেয়ে দেখতে। জিগেস করেছিলো , “আচ্ছা, গ্র্যাজুয়েশনে আপনার কোন ক্লাস ছিলো”? হবু কনে প্রতি প্রশ্ন করেছিলো, “তার আগে বলুন আপনি মেডিকেল কলেজে পড়েননি কেন…ম্যাট্রিকে খারাপ হয়েছিলো বুঝি”?
এরপর আর কোনো সম্বন্ধ হয়নি করুণার। বীরেন্দ্রনাথ স্ত্রীকে বলে দিয়েছিলেন. “তোমার মেয়ের জন্যে আর ছেলে খুঁজবোনা আমি”। কথা বলাও বন্ধ করেছিলেন।

 

তার কিছুদিন পরেই দার্জিলিংএ মহারাণী স্কুলে চাকরি নিয়ে চলে গিয়েছিল করুণা।  তখনও দার্জিলিংএ ষোড়শীবালার রাজ্যপাট বজায় আছে। ঠিক বটানিকাল গার্ডেনের ওরে দুটি পাশাপাশি তিনতলা কাঠের বাড়ি জুড়ে। দিদিমা ছাড়াও মামাবাড়িতে দুই মামীমা। তারা ঠিকলাঠি নিয়ে ধেয়ে আসার মত মানুষ ছিলেননা। তাও বীরেন্দ্রনাথের খাপছাড়া মেজমেয়ে সে বাড়িতে বেশীদিন থাকেনি। মেয়ে হোস্টেলের ওয়ার্ডেন হয়ে সেখানেই ছিলো চাকরির দুটি বছর। বেড়াতে যেতো মামাবাড়ি।ঐ পর্যন্ত।   করুণার কি বাঁধনের ভয় ছিলো ? নাকি বিনিসুতোয় বাঁধা পড়াই তার বেশী পছন্দের ছিলো ? কে জানে!

 

১৯৪৬ থেকে একটি সম্পূর্ণ অনাত্মীয় মানুষ জড়িয়ে পড়ে লাহিড়ী বাড়ির সুখে দুঃখে। তার নাম প্রমোদরঞ্জন সান্যাল। বীরেন্দ্রনাথের জুনিয়র। লতায় পাতায় পূর্ণলক্ষ্মীর ভাইপো। ছোটখাটো ক্ষুরধার মানুষ। পূর্ণলক্ষ্মীর ছেলেমেয়েদের ছেনুদা। সন্ধেবেলার চায়ের আড্ডায় নিয়মিত যাতায়াত ছিলো সেই মানুষের আশির দশক পর্যন্ত। ১৯৪৬এ যখন শোভনার জন্যে পাত্র খোঁজা চলছে সেই সময় এই মানুষটি একটি অদ্ভূত অবিমৃষ্যকারিতা করে বসেন।

 

— “ছেনু হঠাৎ বলা নেই কওয়া নেই আচমকা একদিন কোর্টে করুণাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসলো ওনাকে।আর উনিও আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ না করেই তাকে বলে বসলেন “তুমি শোভনাকে বিয়ে করো”। ছেনু রাজি হবে কেন! তারপর সে বেশ কিছুদিন আর এদিকে আসেনি। পুরুষ মানুষরা বড় অবুঝ হয়”!
অবুঝ হয় না অবুঝ হওয়ার ভান করে কে জানে। বীরেন্দ্রনাথের মত পাকা মাথার লোক কিভাবে এতবড় ভুল করেছিলেন! অথবা  সমস্তটাই  ছিল  ‘না’ বলার একটি পরিমার্জিত সংস্করন ?  যে বোঝার সে হয়তো বুঝেছিলো, কারণ শোভনার বিয়ের কিছু পরেই প্রমোদরঞ্জন সান্যাল বিয়ে করেন।

—“খুব ঘটাপটা করে বৌভাত হয়েছিলো। ছেনুর শ্বশুরবাড়ি মস্ত বড়লোক। দিল্লীর প্রবাসী বাঙালী। চার ভাইয়ের একমাত্র বোন। আমার কিন্তু বাপু নতুন বউয়ের চোখমুখ দেখে ভালো লাগেনি। কেমন যেন ঘোর লাগা ভাব। তা ভাবলুম অতদূর থেকে নতুন পরিবেশে এসে পড়েছে তাই হয়তো অমনধারা লাগছে। মন কু গাইছিলো বলে নিজেকে খুব ধিক্কার দিলুম”।

 

এর কিছু পরেই করুণা দার্জিলিং চলে গিয়েছিলো। আশ্চর্যের কথা এই যে পূর্ণলক্ষ্মী তাকে থামানোর চেষ্টা করেননি। বছর খানেক বাদে বোঝা গিয়েছিলো নতুন বউটি স্বাভাবিক নয়। ততদিনে প্রমোদরঞ্জনের একটি ছেলে হয়েছে। চন্দন। আরও বছর দেড়েকের মাথায় একটি মেয়ে, নন্দিনী। তারপরের ঘটনা আরও অদ্ভূত। একদিন গভীর রাতে শ্বাসকষ্ট হওয়ায় ঘুম ভেঙ্গে যায় প্রমোদরঞ্জনের।  শ্বাসকষ্ট নয়।স্বচক্ষে দেখেছিলেন তাঁর স্ত্রী তাঁর গলায় দড়ির ফাঁস দিয়ে তাঁকে মারার চেষ্টা করছে। দিন দুইয়ের মধ্যেই ভাইয়েদের ডাক পড়েছিলো। তারা এসে বোনকে দিল্লী ফেরৎ নিয়ে গিয়েছিলো। দুটি শিশুর মায়ের সঙ্গে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠেনি। বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি, যদিও কোনও বাধা ছিলোনা। মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীর দায়িত্ব বয়ে গেছেন আমৃত্যু। শুধু ছেলেমেয়ে কখনো দিল্লী যায়নি।

 

জীবন আর সুখদুঃখ কোনও নিয়ম মেনে চলেনা। এসব ঘটনার খানিক আগেই করুণা দার্জিলিংএর চাকরি ছেড়ে ফিরে এসে  এম্ এ তে ভর্তি হয়। তারপর স্কটিশ চার্চ কলেজে ইতিহাসের অধ্যাপনা। প্রমোদরঞ্জনও আবার এসে ভর্তি হ’ন লাহিড়ী বাড়ির চায়ের আড্ডায়। কোনও কথা ওঠেনি। কেউ কোনও প্রশ্ন তোলেনি। ছেনুদা আবার ভাইবোনেদের অজস্র হাসিয়েছেন; নিজেও হেসেছেন তাদের সঙ্গে। কোনও নিয়ম ভাঙ্গেনি। কোনও মিথ্যাচারও হয়নি। কোর্ট থেকে ফিরে পাটভাঙ্গা ধুতি আর গিলে করা পাঞ্জাবি পরে হাজির হয়েছেন চুরুট ঠোঁটে ঝুলিয়ে। সিঁড়িতে পায়ের শব্দ পেয়ে করুণা উঠে জাপানি পিরিচ পেয়ালা বার করে নিজে হাতে চা নিয়ে এসেছে। দুটি একটি কথা বলেছে।  হাসির হুল্লোড় শুরু হলে দূরে বসে মুখে আঁচল চাপা দিয়ে হেসেছে। কোনটা গল্প কোনটা জীবন কে বলে দেবে…এই ভাবেই দুজনেরই বয়েস বেড়েছে, গল্প আর এগোয়নি; শুধ গভীরতা বেড়েছে। এতই গভীরতা যে কোনও ভাই বোনের  কোনওদিন এই গল্প আপত্তিকর মনে হয়নি। এমনকি সিনেমা হলে একসঙ্গে দেখতে পেলেও নয়।  শুধু বহু বছর পরে, যখন করুণার মুখে বলিরেখার পূর্বাভাস, একটা ছোট মেয়ে আড়াল থেকে দিদিমার চাপা রাগী গলা শুনেছিলো: “ঐ জেদই তোর কাল। ছেলেটাকে একবার মুখ ফুটে বলতে কি হয়েছিলো, শুনি?  বোকা মেয়ে”!

 

লজ্জা, না অভিমান, না প্রতিশোধ?  সোনা এই নিয়ে অনেক ভেবেছে বড় হয়ে।। ছোটবেলার অনেক কথা ছবি হয়ে থাকে। ছোড়দিমাসি  এক পূর্ণিমার রাতে ছাতে রজনীগন্ধার মস্ত বাথটাবের ছায়ায় তাকে প্রায় কোলের কাছে টেনে নিয়ে অপটু সুরেলা গলায় গান শিখিয়েছিলো:

 

     চাঁদের হাসির বাঁধ ভেঙেছে , উছলে পড়ে আলো ।

      ও রজনীগন্ধা , তোমার গন্ধসুধা ঢালো ॥

     পাগল হাওয়া বুঝেতে নারে   ডাক পড়েছে কোথায় তারে –

      ফুলের বনে যার পাশে যায় তারেই লাগে ভালো ॥

      নীল গগনের ললাটখানি চন্দনে আজ মাখা ,

      বাণীবনের হংসমিথুন মেলেছে আজ পাখা ।

     পারিজাতের কেশর নিয়ে ধরায় , শশী , ছড়াও কী এ ।

      ইন্দ্রপুরীর কোন্‌ রমণী বাসরপ্রদীপ জ্বাল ॥

       ও রজনীগন্ধা , তোমার গন্ধসুধা ঢালো ॥

  
                                                                                                       *****

Image

সে যাই হোক। ১৯৫০ এ করুণার কলকাতায় ফেরা । সময় বড় খারাপ।  দেশভাগের টালমাটাল তখনও  তার রেশ ছড়াচ্ছে চারিদিকে। কলকাতার যাদবপুর অঞ্চলটি উদ্বাস্তু কলোনী।  টানাটানির দিনে এদের ওপরেই মানুষের যত রাগ।  একটা ছড়া তখন মুখে মুখে ফিরতো কলকাতার মানুষদের: “বঙালু ভাত খাইলু হাঁড়ি ভাঙিলু পয়সা দিলুনা”।  রোগা উদ্ভ্রান্ত নিরন্ন মানুষদের নিয়ে এই নিষ্ঠুর হাসি, এও দেশভাগের এক বিষফল।

 

কত সব ছড়া লেখা হয়েছে সেই সময়ে হাসি কান্নায় মেশানো:

 

 শেষটা আমি ঠিক করেছি

দেশটা করে বিক্রী

গন্ডা কয়েক গড়িয়ে দেবো

ফতেপুর সিক্রী

আয় রে বাঙাল, আয়রে

আয় রে কাঙাল, আয়রে

দেনার দায়ে জন্মভূমি

হলো তোদের ডিক্রী

নাকের বদলে নরুন পেলি

ফতেপুর সিক্রী।

 

অথবা:
 

বলো কী হে, বলরাম

কচু কেন এত দাম

ঢ্যাঁড়স এমন কেন মাগগি!

জানেন না গঙ্গায়

জাহাজ আসে না, হায়!

পাচ্ছেন, এই ঢের ভাগ্যি!

 

 

বালীগঞ্জের বাড়িটিতেও ছায়া পড়ছে সময়ের। বিশাল লতায় পাতায় পরিবার। বেশ কিছু আশ্রিত। আরও দুটো মেয়ে প্রায় বিবাহযোগ্যা। ছেলেদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর বয়স হয়নি। বীরেন্দ্রনাথও অতিরিক্ত পরিশ্রমে ক্লান্ত।  এই সময়ে একজন শক্ত মানুষের প্রয়োজন ছিলো সে সংসারে।

অনেক ছোট ছোট রদবদল হয়েছিলো পূর্ণলক্ষ্মীর হেঁশেলে। তরকারিতে বেশি করে ডুমো ডুমো আলু। । মাথাপিছু একটুকরো মাছ। ছোট ছোট পাথরবাটির নয়, বড় বড় জামবাটিতে দই পাতা।গাওয়া ঘিয়ের বদলে বনস্পতিতে লুচি ভাজা। রাত্রিবেলা ভাতের বদলে রুটি। শেষপাতে ছোটবাটিতে দুধ। তাও সে সম্ভব হয়েছলো দুখানা গাই ছিলো বলে। পাঁঠার মাংস শুধু পালেপার্বনে, বা কালিঘাটের হালদার বাড়ির মহাপ্রসাদের ভেট এলে। সে মাংস রান্নার সময়ে ঘিয়ে কার্পণ্য হয়নি। বহাল থেকেছে শুধু সন্ধেবেলা বীরেন্দ্রনাথের ক্ষীর-লুচি। আর কি ভাগ্যি মাটি দেশ ভাগ বোঝেনা, তাই সময়ের আম- জাম- কাঁঠাল- লিচু বারুইপুরের বাগান থেকে ঠিক সময়ে পৌঁছে গেছে বাড়িতে। এম্ এ পাশ করে করুণা যখন কলেজে পড়ানোর চাকরিতে ঢুকলো তখন পূর্ণলক্ষ্মী যে বুক ভরে নিশ্বাস নিতে পেরেছিলেন সে কথা আর কেউ না জানুক, পূর্ণলক্ষ্মী জানতেন।

                                                                                                          ******

এই  মেয়েটিকে কখনোই ঠিক শাসন তর্জন করতে পারেননি পূর্ণলক্ষ্মী। ছোটবেলা থেকেই করুণা কোনওদিন বায়না করেনি। শোভনার মত গলা জড়িয়ে ধরে আদর কাড়েনি বা মায়ের আলমারি খুলে “এই শাড়িটা আমি নিলাম” বলেনি।। অণিমার মত নতুন প্যাটার্নের ঝুমকোর ফরমায়েশ করেনি। মিনতির মত কাশ্মিরি শালের জ্যাকেট চায়নি। এমনকি এই ‘মিলিটারি’  মেয়েকে কানে গলায় কোনওদিনই কিছু পরাতে পারেননি তিনি। শুধু কোনও একদিন ‘মাথার দিব্যি’ দিয়ে দুহাত দুগাছা সোনার চুড়ি জোর করে পরিয়েছিলেন। কালে কালে সে চুড়ি ক’ গাছি ক্ষয়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে। তারপর কবে যে উধাও হয়েছে, কেউ বুঝতেই পারেনি।

একমাত্র একজনেরই সাহস ছিলো করুণার সঙ্গে শক্ত গলায় কথা বলার। অবাধ্য মেয়ের রাশ যখন আর টেনে রাখতে পারতেননা পূর্ণলক্ষ্মী, তখন তাকে ফোন করে ডেকে পাঠাতেন তিনি।   শুধু ঐ একজনের কথাই না শোনার ভান করে শুনতো সে। ঐ মুদ্রাদোষটি রয়ে গিয়েছিলো যতদিন সেই মানুষটি বেঁচে ছিলো।

(ক্রমশঃ)

 

Migration from East Bengal: http://www.mensxp.com/special-features/today/8062-vintage-photos-a-glimpse-of-india.html

ছড়া দুটি  অন্নদাশঙ্কর রায়ের লেখা ১৯৫০ -১৯৫৫ -র মধ্যবর্তী সময়ে।

 

 

Advertisements

About purnachowdhury

I am a person of and for ideas. They let me breathe.
This entry was posted in Uncategorized and tagged , , , . Bookmark the permalink.

2 Responses to পূর্ণলক্ষ্মীর একাল সেকাল (পঞ্চদশ পর্ব )

  1. Pingback: পূর্ণলক্ষ্মীর একাল সেকাল (পঞ্চদশ পর্ব ) | Methinks…

  2. দেশভাগ-সংক্রান্ত সাহিত্য যদি একটা বিশেষ genre হয় তাহলে এই দুটো পর্বও তাতে একটা উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে গণ্য হতে পারে…যদিও দেশভাগ এখানে এসেছে একটু পরোক্ষভাবে । মানে মুখ্য চরিত্র সরাসরি বিভাজনের ফলে উদ্বাস্তু জীবনের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার ভিতর দিয়ে না গেলেও তার আঁচ অন্যদের মাধ্যমে এবং খবর, গুজব এসবের ভিতর দিয়ে পাচ্ছে. এবং তার এ বিষয়ে মতামত তৈরি হচ্ছে, যেটা আগের পর্বেও আপনি দেখিয়েছেন । প্রশ্ন হল এই এত বড় একটা জাতীয় ট্র্যাজেডি, যার প্রকাশ হতে পারত বহুবিধ শিল্পকর্মে, আমাদের সেভাবে নাড়া দিল না কেন ? আমার তো দেশভাগকে holocaustএর সঙ্গে তুলনীয় মনে হয় !

    আপনার চরিত্রদের মধ্যেই বোধ হয় তার একটা ইঙ্গিত মিলবে – বাঙালির মোটের ওপর একটা ঢিলেঢালা গয়ংগচ্ছ ভাব । পরবর্তী দশকগুলিতে রাজনীতির ক্ষেত্রে কিন্তু একটা সম্পূর্ণ রূপান্তর ঘটবে ! হয়তো সেই সময়ের অভিঘাত আপনার চরিত্রদের ওপরেও পড়বে…অপেক্ষায় থাকব । দারুণ হচ্ছে ।

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s